মেনু নির্বাচন করুন
খবর

একজন বিজয় বসাক এবং পশ্চাদপদ বরগুনার তরমুজ চাষী

চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার এবং মুচলেকায় জামিন: তরমুজ চাষীদের নিকট থেকে চাঁদাবাজীর অভিযোগে বরগুনা থানা হেফাজতে থাকা আব্দুল হালিমকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়েছেন তার ভাই ৯ নং এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব শাহনেওয়াজ সেলিম। হালিম কে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নিতে উর্ধ্বতন রাজনৈতিক তদবির ছিল বেশ প্রকটভাবে। তবে এখন থেকে তরমুজ চাষীদের উপর আর কোন অন্যায় অত্যাচার, চাঁদাবাজীর ঘটনা ঘটবে না এবং তারমুজ চাষীদের কোন ধরণের ক্ষতি হলে বা চাঁদাবাজীর ঘটনা ঘটলে তার দায়দায়িত্ব ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বহন করবেন মর্মে তিনি থানায় মুচলেকা দিয়ে তার ভাইকে প্রথম বারের মতো ছাড়িয়ে নিয়েছেন।

বরগুনার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নে সমিতির নামে তরমুজ চাষীদের নিকট থেকে চাঁদাবাজীর অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে আব্দুল হালিমকে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আটক করেন।

সমিতির নাম করে ওই ইউনিয়নের তরমুজ চাষীদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করে আসছিল।

যেভাবে চাঁদাবাজী করেন

চাষী তরমুজ উৎপাদন করবেন, কিন্তু বিক্রি করতে হলে সমিতির মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। চাষী তার ইচ্ছা মতো দাম নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন না।

তরমুজ ক্ষেত থেকে তুলে গাড়িতে তুলতে হলে টাকার বিনিময় ওই সমিতির শ্রমিকের মাধ্যমে তুলতে হবে। চাষী তার ইচ্ছা মতো শ্রমিক নিয়ে তরমুজ পরিবহন করতে পারবেন না।

এছাড়াও প্রতিটি তরমুজ বিক্রি বাবদ ৬টাকা তাকে প্রদান করতে হবে।

এমনি চাঁদাবাজীতে সাধারণ কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছিল।  আগামীকার বুধবার সকাল ১০টায় মনসাতলী এলাকায় তরমুজ চাষীদের সমস্যা নিরসন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আশা করছি এই সমাবেশের মাধ্যমে চাষীদের মাঝে স্বস্তি এবং উদ্দীপনা ফিরে আসবে।

তরমুজ চাষীদের সমস্যা নিরসনে মতবিনিময় সভায় ঘোষণা:

বরগুনার এম বালিয়াতলীর তরমুজ চাষীদের নিরাপত্তায় এখন থেকে দুই শিফটে ২৪ ঘন্টা পুলিশ নিয়োজিত থাকবে।

একজন সিনিয়র অফিসার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন

অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, যত ক্ষমতাবান হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজদের খুঁটি উপড়ে ফেলা হবে।

আজ থেকে কাউকে চাঁদাবাজির সম্মুখীন হতে হবে না। চাষীরা নিশ্চিন্তে ফসল উৎপাদন করবে এবং ইচ্ছামতো বাজারে সরবরাহ করবে।

তরমুজ চাষীদের সঙ্গে নিয়মিত উঠান বৈঠক চলবে।

বিনা রশিদে কোনো চাষী চাঁদা প্রদান করবেন না। সমিতির নিয়ম অনুযায়ী চাঁদা আদায় করতে হলে সমবায় অফিস কর্তৃক অনুমোদিত রশিদ বুকের মাধ্যমে এবং আদায় কারীর স্বাক্ষর সংবলিত রশিদের মাধ্যমে চাদা উত্তোলন করতে হবে।

এখন থেকে তরমুজ বিক্রি এবং পরিবহনে কোন ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।

চাঁদাবাজিসহ তরমুজ চাষীদের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে বুধবার বেলা ১১ টায় বালিয়াতলীর মনসাতলী এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরগুনার পুলিশ সুপার জনাব বিজয় বসাক বিপিএম পিপিএম মহোদয় চাষীদেরকে আশ্বস্ত করে উপরেল্লিখিত এসব কথা বলেন।

সভার শুরুতেই অত্র এলাকার তরমুজ চাষীরা চাঁদাবাজির হাত থেকে রক্ষা সহ তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহোদয় জনাব মোঃ তোফায়েল আহাম্মেদ বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি জনাব আনোয়ার হোসেন মনোয়ার, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুখরঞ্জন শীল, বরগুনার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মো. মাসুদুজ্জামান।

ছবি


ফাইল


প্রকাশনের তারিখ

২০১৮-০৪-২৩

আর্কাইভ তারিখ

২০১৯-০৫-২৮


Share with :

Facebook Twitter